ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নান্নুর স্মরণসভায় নয়নের ক্ষোভ, যুবদলের নতুন কমিটিতে প্রকাশ্যে বিভাজনের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১০:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ১০:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন
নান্নুর স্মরণসভায় নয়নের ক্ষোভ, যুবদলের নতুন কমিটিতে প্রকাশ্যে বিভাজনের ছায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন নান্নুর স্মরণসভায় সদ্য ঘোষিত কমিটির নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বড় কর্মসূচিতে প্রত্যাশিত উপস্থিতি না থাকায় তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও নেতৃত্বের দূরত্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একই দিনে নান্নুর জন্য পৃথক দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা। জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির মাঠে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীর উপস্থিতি নতুন কমিটি ঘিরে অসন্তোষের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। ফলে নান্নুর স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচি ছাপিয়ে যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন নান্নু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রবিবার মারা যান। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণে মঙ্গলবার আলোচনা সভা ও মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহম্মেদ। অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীরা শোক ও শ্রদ্ধায় জাকির হোসেন নান্নুকে স্মরণ করেন। তবে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের বক্তব্যে উঠে আসে সংগঠনের সাংগঠনিক উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ। তিনি বলেন, সদ্য ঘোষিত কমিটির তিন ভাগের এক ভাগ নেতাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেই। কমিটি ঘোষণার পর এটি প্রথম কোনো কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি এত কম উপস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন কমিটি ঘোষণার পর কোনো সংগঠনের প্রথম কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি সাধারণত সাংগঠনিক ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। সেই কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতার অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেন্দ্রিক বিভাজন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বাক্যবিনিময়ের পর দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে বলেও দাবি তাদের। কমিটিতে কারা স্থান পেয়েছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন—এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরস্পরকে দায়ী করার রাজনীতি চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সভাপতি-কেন্দ্রিক নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী আহম্মেদের বক্তব্যের সময় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মির্জা ইউসূফ বিন জলিল কালু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, নান্নু দলের কাছ থেকে অবহেলিত হয়ে দুঃখ-কষ্ট নিয়ে মারা গেছেন। নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হয় দলে মূল্যায়ন করেন, না হয় দল থেকে বের করে দেন।’ এ সময় রুহুল কবির রিজভী আহম্মেদকে নেতা-কর্মীদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। পদবঞ্চিতদের পৃথক কর্মসূচি নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিতদের একাংশ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির মাঠে জাকির হোসেন নান্নুর জন্য দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মী অংশ নেন। মোনাজাতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, দুলাল হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদ হোসেন রিয়ন তালুকদার, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান অলিউদ্দিন সুমন দেওয়ান, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ সরকার এবং সাবেক যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মো. আওলাদ হোসেন রাজু। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, সাবেক ছাত্রনেতা ইসমাইল খান শাহিন, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহ-সভাপতি শরীফ হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আমান উল্লাহ বিপুল, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বাছেদুর রহমান সোহেল, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম, সহ-সম্পাদক শাহিন আকন্দ এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহিনুজ্জামান মিন্টু। উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সৈকত, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক পাটোয়ারী, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট শফিউল বশর সজল, সাবেক সদস্য মাসুদ আহমেদ, সাবেক সদস্য সেলিম হোসেন মুন্না আকন্দ, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শরীফ আল ফরহাদ দিপু। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী মিজবাউল আলম, মুজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর খান সাগর, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রোকন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক নীরব, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব রাজু, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আযম এবং সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক স্বপন কুমার মন্ডল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, ফরিদ খান, সাবেক সদস্য মহিবুল্লাহ জয়, সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম রেজা, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আজিম উদ্দিন মিরাজ, সাবেক সদস্য এম কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের সিনিয়র সহ-সভাপতি খসরু আহমেদ হিরন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর অনুষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা খন্দকার আমিনুল হক আকন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক ইমরান, সাবেক যুবদল নেতা মাইন উদ্দিন বেগ সুজন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা এবাদুল হক পারভেজ, সাবেক ছাত্রনেতা জাহিদুল ইসলাম হিরন, সাবেক ছাত্রনেতা আমির হোসেন বাদশা, সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদ খান, ঢাকা মহানগর পূর্বের সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল মাতব্বর, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ রানা ও সাবেক ছাত্রনেতা মানিক হোসেনসহ আরও অনেকে। নান্নুর স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে একদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি, অন্যদিকে নতুন কমিটির একটি অংশের অনুপস্থিতি এবং একই দিনে পদবঞ্চিতদের পৃথক কর্মসূচি—সব মিলিয়ে যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে সাংগঠনিক ঐক্যের প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, নেতৃত্বের এই দূরত্ব কতটা দ্রুত নিরসন করা যায় এবং পদবঞ্চিতদের অসন্তোষ কীভাবে সামাল দেয় সংগঠনটি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ